ঢাকার দোহার উপজেলায় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমান নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার মেঘুলা বাজারে প্রশাসনের এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৩ টার দিকে উপজেলার মেঘুলা বাজার পদ্মা নদীর পাড় এলাকায় ৪ তলা ভবনে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারি জাল তৈরির ২ টি কারখানা ও ৮টি গোডাউনে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময়ে কারখানার দুটির আটটি গোডাউনে থেকে প্রায় ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ হাজার পিচ চায়না দোয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজার মুল্য ৪ কোটি ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জালগুলো তিনটি ট্রাকে করে উপজেলার মৈনট ঘাটে নিয়ে সন্ধ্যার দিকে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এ ছাড়া জব্দ করা জালে ব্যবহৃত লোহার রড নিলাম ডেকে ৯৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রির সেই অর্থ বিভিন্ন এতিমখানায় প্রদান করা হবে বলে দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ জানান।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দোহারে দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট তানজিমুল ইসলামের একটি বিশেষ দল অভিযানের নেতৃত্ব প্রদান করেন। এসময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ , উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুৎনাহার, পিডি অফিসার (কোস্টগার্ড) আউয়াল ও দোহার থানা পুলিশ।
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এ ধরণের জাল দিয়ে মাছ ধরার ফলে আমাদের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানের ফলে কারেন্ট জাল এখন কমে গেছে। কিন্ত চায়না দোয়ারি একটি নতুন প্রযুক্তি, এটা ব্যবহারের ফলে মাছের পোনা থেকে শুরু করে ডিমও ধ্বংস হচ্ছে। এ ধরণের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ। দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এ ধরণের অভিযান চলমান থাকবে।