৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আশুলিয়ার শ্রীপুর তালপট্টি এলাকার ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডলকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও ব্যবসা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, তিনি চাঁদা না দিলে দোকান বন্ধ, মারধর, মিথ্যা মামলা ও পুলিশে সোপর্দ করার মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
বলিভদ্র বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ রিপন মিয়া জানান, ২৫ বছরের ব্যবসা আজ প্রায় ধ্বংস। জাহাঙ্গীর মণ্ডল তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং দুই দফায় মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়। এমনকি তার নিজের দোকানের ম্যানেজারকে দিয়ে হত্যা চেষ্টার মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ পর্যন্ত দুটি মামলায় রিপনের পক্ষে রায় এসেছে।
শুধু রিপন নন – একই মার্কেটের আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী, যেমন হুমায়ুন কবির ও আলম ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছেন। শুনানি শেষে আদালত আশুলিয়া থানা পুলিশকে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
অভিযোগ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম মণ্ডল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ মণ্ডলের লোকেরা টাকা খরচ করে তার নামে মামলা করিয়েছে। রিপন আওয়ামী লীগপন্থী এবং তার বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, মামলাটি এখনো রহস্যজনক। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বাদীর তৎপরতাও নেই।
এদিকে ব্যবসায়ী মহল বলছে, জাহাঙ্গীর মণ্ডল ও তার সহযোগীদের কারণে বাজার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী রিপন বলেন,
“আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী মানুষ। চাঁদা না দেওয়ার কারণে ২৫ বছরের ব্যবসা ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি যেন আবার ব্যবসা শুরু করতে পারি, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাই।”